আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

ফানাম নিউজ
  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্যকে দেশের সব মুসলমানের অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন নয়। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।’

তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কিছু অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। মেধাবীদের উৎসাহিত ও যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়াও সেই উদ্যোগের অংশ।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

এ ছাড়া হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিক এবং নিজেদের, দেশের ও দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক।

ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে জানালে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের ধরন ভিন্ন হলেও সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে মানুষ শান্তিতে ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।

তিনি দেশের জন্য কাজ করতে সরকারের প্রতি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন এবং প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার পেয়েছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।