মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের সময় এসেছে: পাকিস্তান

ফানাম নিউজ
  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮

মক্কার কাছে হুথিদের ড্রোন হামলার অভিযোগের পর পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তির অংশীদার হিসেবে পাকিস্তান নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। মক্কার কাছে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চুক্তিটি কার্যকর করার সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, মক্কার দিকে আসা একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি হুথিদের ছোড়া। তবে হুথি গোষ্ঠী মক্কা বা কোনো পবিত্র স্থাপনাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

খাজা আসিফ বলেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে বাস্তবিক ও কূটনৈতিক—দুইভাবেই থাকবে। মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে পাকিস্তান ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক গত ৭ আগস্ট মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য পারস্পরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালকও জানিয়েছেন, এই প্রতিরক্ষা জোটের কোনো আঞ্চলিক আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই এবং এটি মূলত যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার জন্য গঠিত।

তবে মক্কার কাছে ড্রোন হামলার অভিযোগের বিষয়ে হুথিদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা মক্কা বা কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে আঞ্চলিকভাবে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।